শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
কৃষি প্রবাহ

রংপুরে সারের টানাটানি, দোকানে মজুত থাকলেও কৃষকের হাতে মিলছে না

রংপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৩:২৮ পিএম
রংপুরে সারের টানাটানি, দোকানে মজুত থাকলেও কৃষকের হাতে মিলছে না

শস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল রংপুরে চলতি আমন মৌসুমে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা। তবে সার ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে সার সংকট নেই। কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।

 

সারের পরিস্থিতি জানতে রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শাপলা চত্বর থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত কয়েকটি সার ব্যবসায়ীর দোকান ও গোডাউনে ইউরিয়াসহ টিএসপি, এমওপি ও ডিএপির মজুত রয়েছে।

 

ব্যবসায়ীরা একদিকে বাজারে সংকট নেই বলে দাবি করলেও কৃষকেরা কেন সরকার নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি অনেকে।

 

সার ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, ইউরিয়া নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে এমওপি ও ডিএপির বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় কম এসেছে। তার পরও গোডাউনে পর্যাপ্ত সার রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

লালবাগ এলাকার ব্যবসায়ী সোলায়মান আলীও সারের বড় কোনো সংকট নেই বলে জানান। তার ভাষ্য, গ্রামের হাট-বাজারে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।

 

এদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬১ মেট্রিক টন।

 

রংপুর নগরীর আশপাশের তামফাট, মাহিগঞ্জ ও বৈরাগিগঞ্জ এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সার সংকটের কথা অস্বীকার করলেও বাস্তবে তারা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির জন্যই কেউ কেউ কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

 

দর্শনা এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তার ৮ একর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। বর্তমানে জমিতে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার প্রয়োগ করা জরুরি হলেও দোকানে গিয়ে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ার কথা জানিয়ে সার দিতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

 

নাজির দিগর গ্রামের কৃষক এমদাদুল হকও একই ধরনের সমস্যার কথা জানান। তার মতে, আমনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি প্রয়োগ করা না গেলে ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

কৃষকদের আরও অভিযোগ, ডিলারদের কাছ থেকে সার না পেয়ে তাদের খোলা বাজারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেখানে বেশি দামে সার কেনায় উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।

 

তবে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহমুদা খাতুন বলেন, রংপুরে আমন মৌসুমে সারের কোনো সংকট নেই। যারা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

নয়াদিল্লিতে এসএসি ও আইসিএআর-এর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংবাদের লিংক কপি হয়েছে!