শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
কৃষি প্রবাহ

সার পাচার ঠেকাতে গিয়ে পদকপ্রাপ্ত কৃষকের জেল

জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৬:৪৬ পিএম
সার পাচার ঠেকাতে গিয়ে পদকপ্রাপ্ত কৃষকের জেল

 চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সার পাচারের সন্দেহে কয়েকটি সারবোঝাই ট্রাক আটকের উদ্যোগ নেওয়ার পর চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে কৃষি খাতে পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. আইয়ুব আলীকে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

 

গত মঙ্গলবার দুপুরে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালি নৌঘাট এলাকায় চারটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ সার অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকগুলোর চলাচল স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করলে কৃষক আইয়ুব আলী বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানান। পরে কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে ট্রাকগুলো আটকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

এরপর ঘটনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। পুলিশ আইয়ুব আলীকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করে। বুধবার (৭ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

তবে মামলার বাদী মো. ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আইয়ুব আলী তার কাছে কোনো চাঁদা দাবি করেননি। পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে থানায় নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, আইয়ুব আলী কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশ অনুসরণ করে সারবোঝাই ট্রাক আটকের উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই তার স্বামীকে মামলার আসামি হতে হয়েছে।

 

এদিকে মিয়ানমারে সার পাচারের ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ চ্যানেল ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত দেড় মাসে কয়েকটি অভিযানে কোস্ট গার্ড বিপুল পরিমাণ সার আটক করেছে। সীতাকুণ্ডের অন্তত চারটি স্থানকে সার পাচারের সম্ভাব্য রুট হিসেবে চিহ্নিত করার কথাও জানা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে এক স্থান থেকে অন্যত্র সার পরিবহনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সড়ক দিয়ে একাধিকবার সার আটকের ঘটনা ঘটায় সেটি পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

 

আইয়ুব আলীকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থানায় যান। তার মুক্তির বিষয়ে তারা বিভিন্নভাবে সুপারিশ করেন। ঘটনাটি নিয়ে সীতাকুণ্ডজুড়েও আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি নিয়ন্ত্রিত বা ভর্তুকির সার অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সারের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুত ও পাচারের কারণে স্থানীয় সার বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সার পরিবহনের সঙ্গে কোনো ধরনের অবৈধ পাচার জড়িত ছিল কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সংবাদ

নয়াদিল্লিতে এসএসি ও আইসিএআর-এর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংবাদের লিংক কপি হয়েছে!